ঢাকা ১০:২০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
চট্টগ্রাম জেলা শিল্পকলা একাডেমীতে ক্যানভাস পাপেট থিয়েটারের ১৩ বছরের সৃজনযাত্রা উদযাপন ওসমানীনগর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রবীণ কর্ণারের উদ্বোধন এইচআরসি এ্যাওয়ার্ড পদকের জন্য মনোনীত হলেন সাংবাদিক এনায়েত সোহেল নাজমুলের পদত্যাগের দাবিতে অনড় ক্রিকেটাররা, মাঠে যাননি কেউ যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশিদের ভবিষ্যৎ: ওয়েলফেয়ার বিতর্কে ভিসা সংকট সাফ’র কমিটি পুনর্গঠন : সভাপতি এনকে নয়ন, সম্পাদক শাহিন ফ্রান্স যুবদলের যুগ্ম সম্পাদক হলেন ঢাবির সাবেক ছাত্র নেতা রনি খালেদা জিয়ার সমাধিস্থলে দোয়া-শ্রদ্ধা প্যারিসে বিজয় উৎসব “মুক্তিযোদ্ধারাই জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান, তাঁদের ঋণ কখনো শোধ হবার নয়” হার দিয়ে শুরু স্বাগতিক সিলেটের শান্তর ঝড়ো সেঞ্চুরিতে ভর করে জিতে গেল রাজশাহী

দ্রোহের বারুদ এবং অব্যক্ত আকাঙ্ক্ষা!

অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলী ওয়াক্কাস :  (১ম পর্ব)  : যূথবদ্ধ সমাজ সভ্যতা এবং সংস্কৃতিতেই মানুষের পথচলা। মানবজাতি যাপিত ভাবনা এবং দিনলিপির মাঝেই সুখের আভা খুঁজে বেড়ায়। স্বাধীনতা স্বাধিকার মত ও পথের স্বাভাবিক চর্চা এবং অনুসরণের মাঝে ই শ্রেষ্ঠত্বের সার্থকতার উপস্থিতি জানান দেয়। বাংগালী জীবনে এসবের চর্চা ও অনুশীলনের পথ কোন কালে ই ফুলশয্যা ছিল না। নানা কারণে এখানটায় কণ্টকাকীর্ণ অনুভূতি ই প্রবল ছিল। দেশী বিদেশী শাসনের শোষণ এবং অবহেলার যাঁতাকলে এ জাতি হোঁচট খেয়েছে বারবার।এবং সম্বিত ফিরে পেয়ে ঘুরে দাঁড়াতে ও পিছপা হয়নি। কালপরিক্রমায় এ জনপদের মানুষের কপালে সুখ ও কষ্টের মিশ্র অভিজ্ঞতার চিত্র দেখা যায়। এ সমাজের মানুষ কেন কেবলই অবদমিত নির্যাতিত এবং অবহেলিত হবে? স্বদেশী শাসকরা ও কেন এ মানুষগুলোর মত ও পথ চর্চায় কাঁটা হয়ে দাঁড়াবে? ভাবতেই শিহরিত ও বিহ্বল হতে হয়। ১৭৫৭ থেকে ২০২৪ দীর্ঘ পথ পরিক্রমায় এ অঞ্চলের মানুষেরা স্বীয় অধিকার ও অস্তিত্ব প্রতিষ্ঠায় নানা আয়োজনের সফল সমাপ্তি সত্ত্বেও কাঙ্ক্ষিত স্বপ্ন থেকে কেন জানি যোজন যোজন দূরে? এসবই কি মজ্জাগত সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার? আর কত রক্ত বহমান হলে আমাদের হুঁশ ফিরবে? রক্তের সাথে উপহাসের হেতু কি? জুলাই বিপ্লবের সোনালী ফসল যদি ঘরে তুলতে এ জাতি ব্যর্থ হয়, তাহলে কপালে দুঃখ আছে। জেগে ওঠার এখনই সময়।

২০২৪ জুলাই আগস্টের আমজনতার স্বতঃস্ফূর্ত এবং সর্বাত্মক বিস্ফোরণ নতুন বাংলাদেশের প্রাপ্তি। যেখানটায় মোটা দাগে দ্বিতীয় স্বাধীনতা বলেও অনেকে মত দিয়েছেন। জগদ্দল পাথরের বোঝা থেকে কাঙ্খিত মুক্তির পথ কি খুব মসৃণ ছিল? দেড়যুগের দীর্ঘশ্বাসের সফল সমাপ্তি হলো জুলাই বসন্ত। যেখানটায় দাঁড়িয়ে আগামীর বাংলাদেশ বিনির্মাণের স্বপ্ন দেখা শুরু। চূড়ান্ত বিজয়ের রক্তাক্ত সমাপ্তির পর দ্বিতীয় ধাপে উত্তরণের ক্ষেত্রে আমাদের মন-মনন মগজ ও মনোভাব কতটুকু প্রস্তুত? আমরা কি তৈরি আছি ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিতে? নাকি অবলিলায় ভুলে গিয়ে নিজেদের মাঝে ফ্যাসিবাদের বীজ বপণের প্রতিযোগিতায় মত্ত! ভাবার বিষয়। রেনেসাঁর কবি ফররুখের ভাষায়ও বলা লাগে ‘রাত পোহাবার কত দেরি পাঞ্জেরি’।
বিপ্লব প্রতিবিপ্লব সারা দুনিয়ায় অনেকবার অনেক ভাবেই উদযাপিত হয়েছে। বিপ্লবের পেছনে কেবল ক্ষমতার পালাবদল ই মুখ্য অনুঘটক হয় না। এখানটায় অবিশ্বাস জবাবদিহিতার সংকট চরম নৈরাজ্য অস্থিরতা লাগামহীন দূর্ণীতি স্বেচ্ছাচারিতা প্রশ্নবিদ্ধ স্বকীয়তা এসবের আকুতি এবং পংকিলতাই বড় হয়ে দাঁড়ায়। ইতিহাসের জনক হেরোডোটাস বলেন রাজনৈতিক অনিয়ম যখন সবচেয়ে বড় নিয়ম হয়ে যায়, তখন সভ্যতাকে রক্ষার দায়িত্ব প্রকৃতির উপর বর্তায়। এমন ই নানা ঘটনা প্রবাহ সভ্যতার গতিপথে নতুন মেরুকরণের সংযোজন করেছে। যেমনটা ফরাসি বিপ্লব (১৭৮৯-১৭৯৯) হাইতিয়ান বিপ্লব (১৭৯১-১৮০৪) রুশ বিপ্লব ১৯১৭ চীনের কমিউনিস্ট বিপ্লব (১৯৪৫-১৯৪৯) চেকোশ্লভিয়ার ১৯৬৮ সালের প্রাগ বসন্ত ১৯৭৯ সালে ইরানের ইসলামী বিপ্লব (২০১০-২০১১) তে মধ্যপ্রাচ্যের আরব বসন্ত এবং সাম্প্রতিক জুলাই ২৪ বারুদের মাঝে বনি আদমের আকাঙ্ক্ষা ও প্রত্যাশার স্তুতি দেখতে পাওয়া যায়। সব বিপ্লব ই কি সফল? বিপ্লব পরবর্তী জমানায় জনপ্রত্যাশার লালন এবং উপস্থিতি কি ঘটেছিল? কোটি টাকার প্রশ্ন?

ভিনদেশী হেজমনির প্রত্যক্ষ প্রভাব ক্ষমতালিপ্সু লাল ফিতার ইজারাদারদের দালালির মানসিকতা জাতীয় ঐক্যমত্যের অনুপস্থিতি এবং প্রশাসনিক সহযোগিতায় খুনি হাসিনা রেজিম এদেশের মানুষের মত ও আকাঙ্ক্ষা প্রকাশের দরজায় কপাট লাগাতে সমর্থ হয়েছিল। বিরোধীপক্ষকে দমন ও নিঃশেষ করার মানসে অধিকার ও আকাঙ্ক্ষা থেকে ধর্মপ্রাণ বৃহৎ জনগোষ্ঠীর প্রতি মুখ ফিরিয়ে, তাদের রিজিক ও সম্মানকে পদদলিত করে এবং বাংলাদেশ পন্থীদের নানা বাহানায় ক্যাঙ্গারো কোর্টের রায়ে দুনিয়া থেকে বিদায় দিয়ে প্রতিবেশীর আধিপত্য এবং করদরাজ্যের মুচলেকায় ক্ষমতাকে দীর্ঘায়িত করতে সমর্থ হয়েছিল। এ এক দীর্ঘ নিঃশ্বাস যেখানে নিয়ত ভয় এবং শংকা তাড়া করে বেড়াতো।

জুলাই বিপ্লব কেবল কি কোন দল শ্রেণী পেশার একক স্বত্ব? দ্রোহের আগুনের লেলিহানে বাংলার আকাশ রক্তিম হয়েছিল কি কোন দল গোষ্ঠীর মদদে? এ ছিল রেনেসাঁ এবং স্বতঃস্ফূর্ত জাগরন। যেখানটায় সব শ্রেণী পেশার মানুষের শারীরিক মানসিক স্পৃহা এবং আকাঙ্ক্ষা বারুদের রূপান্তরিত হয়েছিল। রাষ্ট্রীয় শাসক শক্তির বুলেট গ্রেনেড স্নাইপারের সামনে অকাতরে বুক পেতে দেয়ার মোরতবা ই হল আজকের নতুন বন্দোবস্তের আকাঙ্ক্ষা। আগস্ট পরবর্তী জামানার হাল হাকিকত আওড়ালেই এসব বুঝার কথা। অথচ দ্বিতীয় ধাপে চূড়ান্ত সমীকরণে কোথায় যেন স্বদেশপ্রেম জাতীয় ঐক্য এবং তাজা রক্তের পবিত্রতা রক্ষায় আপোষকামীতা? ঈদের পর আন্দোলন এবং শেখ হাসিনা পালায় না এ সবই তো ছিল তখনকার ডিসকোর্স! কিভাবে কোত্থেকে সৃষ্টিকর্তার ইশারায় আবাবিল পাখির ন্যায় ঝাকে ঝাকে জেনারেশন জেড অমানিশা ভেদ করে আলোর পথ প্রশস্ত করণে নিজের জীবন অকাতরে বিলিয়েছে ভেবে শিহরিত হতে হয়। রবী ঠাকুরের পংক্তিতে ও বলা আছে

‘যারা জীর্ণ জাতির বুকে জাগালো আশা
মৌল মলিন মুখে জোগালো ভাষা’

এসব কি ভুলে গেলে চলবে? তখন তর্জনীর গর্জন কোথায় ছিল? হঠাৎ অপ্রত্যাশিত মর্যাদা ও ক্ষমতা পেয়ে বকধার্মিক চাটুকার দরবেশ বাবারা রক্তের সাথে আপোষ করে চেটে ফুটে গিলে খাচ্ছে। যেখানটায় বলা যায় উলটপালট করে দে মা লুটেপুটে খাই! এজন্যই কি এত রক্তের ঋণ? (কৃতজ্ঞতা : লিখাটি কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদের আল ইসলাহ ম্যাগাজিনের জুলাই বিপ্লব সংখ্যায়প্রকাশিত)

লেখক : সমাজকর্ম বিভাগ, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।

 

 

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

চট্টগ্রাম জেলা শিল্পকলা একাডেমীতে ক্যানভাস পাপেট থিয়েটারের ১৩ বছরের সৃজনযাত্রা উদযাপন

দ্রোহের বারুদ এবং অব্যক্ত আকাঙ্ক্ষা!

আপডেট সময় ০২:২৮:৫৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২৫

অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলী ওয়াক্কাস :  (১ম পর্ব)  : যূথবদ্ধ সমাজ সভ্যতা এবং সংস্কৃতিতেই মানুষের পথচলা। মানবজাতি যাপিত ভাবনা এবং দিনলিপির মাঝেই সুখের আভা খুঁজে বেড়ায়। স্বাধীনতা স্বাধিকার মত ও পথের স্বাভাবিক চর্চা এবং অনুসরণের মাঝে ই শ্রেষ্ঠত্বের সার্থকতার উপস্থিতি জানান দেয়। বাংগালী জীবনে এসবের চর্চা ও অনুশীলনের পথ কোন কালে ই ফুলশয্যা ছিল না। নানা কারণে এখানটায় কণ্টকাকীর্ণ অনুভূতি ই প্রবল ছিল। দেশী বিদেশী শাসনের শোষণ এবং অবহেলার যাঁতাকলে এ জাতি হোঁচট খেয়েছে বারবার।এবং সম্বিত ফিরে পেয়ে ঘুরে দাঁড়াতে ও পিছপা হয়নি। কালপরিক্রমায় এ জনপদের মানুষের কপালে সুখ ও কষ্টের মিশ্র অভিজ্ঞতার চিত্র দেখা যায়। এ সমাজের মানুষ কেন কেবলই অবদমিত নির্যাতিত এবং অবহেলিত হবে? স্বদেশী শাসকরা ও কেন এ মানুষগুলোর মত ও পথ চর্চায় কাঁটা হয়ে দাঁড়াবে? ভাবতেই শিহরিত ও বিহ্বল হতে হয়। ১৭৫৭ থেকে ২০২৪ দীর্ঘ পথ পরিক্রমায় এ অঞ্চলের মানুষেরা স্বীয় অধিকার ও অস্তিত্ব প্রতিষ্ঠায় নানা আয়োজনের সফল সমাপ্তি সত্ত্বেও কাঙ্ক্ষিত স্বপ্ন থেকে কেন জানি যোজন যোজন দূরে? এসবই কি মজ্জাগত সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার? আর কত রক্ত বহমান হলে আমাদের হুঁশ ফিরবে? রক্তের সাথে উপহাসের হেতু কি? জুলাই বিপ্লবের সোনালী ফসল যদি ঘরে তুলতে এ জাতি ব্যর্থ হয়, তাহলে কপালে দুঃখ আছে। জেগে ওঠার এখনই সময়।

২০২৪ জুলাই আগস্টের আমজনতার স্বতঃস্ফূর্ত এবং সর্বাত্মক বিস্ফোরণ নতুন বাংলাদেশের প্রাপ্তি। যেখানটায় মোটা দাগে দ্বিতীয় স্বাধীনতা বলেও অনেকে মত দিয়েছেন। জগদ্দল পাথরের বোঝা থেকে কাঙ্খিত মুক্তির পথ কি খুব মসৃণ ছিল? দেড়যুগের দীর্ঘশ্বাসের সফল সমাপ্তি হলো জুলাই বসন্ত। যেখানটায় দাঁড়িয়ে আগামীর বাংলাদেশ বিনির্মাণের স্বপ্ন দেখা শুরু। চূড়ান্ত বিজয়ের রক্তাক্ত সমাপ্তির পর দ্বিতীয় ধাপে উত্তরণের ক্ষেত্রে আমাদের মন-মনন মগজ ও মনোভাব কতটুকু প্রস্তুত? আমরা কি তৈরি আছি ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিতে? নাকি অবলিলায় ভুলে গিয়ে নিজেদের মাঝে ফ্যাসিবাদের বীজ বপণের প্রতিযোগিতায় মত্ত! ভাবার বিষয়। রেনেসাঁর কবি ফররুখের ভাষায়ও বলা লাগে ‘রাত পোহাবার কত দেরি পাঞ্জেরি’।
বিপ্লব প্রতিবিপ্লব সারা দুনিয়ায় অনেকবার অনেক ভাবেই উদযাপিত হয়েছে। বিপ্লবের পেছনে কেবল ক্ষমতার পালাবদল ই মুখ্য অনুঘটক হয় না। এখানটায় অবিশ্বাস জবাবদিহিতার সংকট চরম নৈরাজ্য অস্থিরতা লাগামহীন দূর্ণীতি স্বেচ্ছাচারিতা প্রশ্নবিদ্ধ স্বকীয়তা এসবের আকুতি এবং পংকিলতাই বড় হয়ে দাঁড়ায়। ইতিহাসের জনক হেরোডোটাস বলেন রাজনৈতিক অনিয়ম যখন সবচেয়ে বড় নিয়ম হয়ে যায়, তখন সভ্যতাকে রক্ষার দায়িত্ব প্রকৃতির উপর বর্তায়। এমন ই নানা ঘটনা প্রবাহ সভ্যতার গতিপথে নতুন মেরুকরণের সংযোজন করেছে। যেমনটা ফরাসি বিপ্লব (১৭৮৯-১৭৯৯) হাইতিয়ান বিপ্লব (১৭৯১-১৮০৪) রুশ বিপ্লব ১৯১৭ চীনের কমিউনিস্ট বিপ্লব (১৯৪৫-১৯৪৯) চেকোশ্লভিয়ার ১৯৬৮ সালের প্রাগ বসন্ত ১৯৭৯ সালে ইরানের ইসলামী বিপ্লব (২০১০-২০১১) তে মধ্যপ্রাচ্যের আরব বসন্ত এবং সাম্প্রতিক জুলাই ২৪ বারুদের মাঝে বনি আদমের আকাঙ্ক্ষা ও প্রত্যাশার স্তুতি দেখতে পাওয়া যায়। সব বিপ্লব ই কি সফল? বিপ্লব পরবর্তী জমানায় জনপ্রত্যাশার লালন এবং উপস্থিতি কি ঘটেছিল? কোটি টাকার প্রশ্ন?

ভিনদেশী হেজমনির প্রত্যক্ষ প্রভাব ক্ষমতালিপ্সু লাল ফিতার ইজারাদারদের দালালির মানসিকতা জাতীয় ঐক্যমত্যের অনুপস্থিতি এবং প্রশাসনিক সহযোগিতায় খুনি হাসিনা রেজিম এদেশের মানুষের মত ও আকাঙ্ক্ষা প্রকাশের দরজায় কপাট লাগাতে সমর্থ হয়েছিল। বিরোধীপক্ষকে দমন ও নিঃশেষ করার মানসে অধিকার ও আকাঙ্ক্ষা থেকে ধর্মপ্রাণ বৃহৎ জনগোষ্ঠীর প্রতি মুখ ফিরিয়ে, তাদের রিজিক ও সম্মানকে পদদলিত করে এবং বাংলাদেশ পন্থীদের নানা বাহানায় ক্যাঙ্গারো কোর্টের রায়ে দুনিয়া থেকে বিদায় দিয়ে প্রতিবেশীর আধিপত্য এবং করদরাজ্যের মুচলেকায় ক্ষমতাকে দীর্ঘায়িত করতে সমর্থ হয়েছিল। এ এক দীর্ঘ নিঃশ্বাস যেখানে নিয়ত ভয় এবং শংকা তাড়া করে বেড়াতো।

জুলাই বিপ্লব কেবল কি কোন দল শ্রেণী পেশার একক স্বত্ব? দ্রোহের আগুনের লেলিহানে বাংলার আকাশ রক্তিম হয়েছিল কি কোন দল গোষ্ঠীর মদদে? এ ছিল রেনেসাঁ এবং স্বতঃস্ফূর্ত জাগরন। যেখানটায় সব শ্রেণী পেশার মানুষের শারীরিক মানসিক স্পৃহা এবং আকাঙ্ক্ষা বারুদের রূপান্তরিত হয়েছিল। রাষ্ট্রীয় শাসক শক্তির বুলেট গ্রেনেড স্নাইপারের সামনে অকাতরে বুক পেতে দেয়ার মোরতবা ই হল আজকের নতুন বন্দোবস্তের আকাঙ্ক্ষা। আগস্ট পরবর্তী জামানার হাল হাকিকত আওড়ালেই এসব বুঝার কথা। অথচ দ্বিতীয় ধাপে চূড়ান্ত সমীকরণে কোথায় যেন স্বদেশপ্রেম জাতীয় ঐক্য এবং তাজা রক্তের পবিত্রতা রক্ষায় আপোষকামীতা? ঈদের পর আন্দোলন এবং শেখ হাসিনা পালায় না এ সবই তো ছিল তখনকার ডিসকোর্স! কিভাবে কোত্থেকে সৃষ্টিকর্তার ইশারায় আবাবিল পাখির ন্যায় ঝাকে ঝাকে জেনারেশন জেড অমানিশা ভেদ করে আলোর পথ প্রশস্ত করণে নিজের জীবন অকাতরে বিলিয়েছে ভেবে শিহরিত হতে হয়। রবী ঠাকুরের পংক্তিতে ও বলা আছে

‘যারা জীর্ণ জাতির বুকে জাগালো আশা
মৌল মলিন মুখে জোগালো ভাষা’

এসব কি ভুলে গেলে চলবে? তখন তর্জনীর গর্জন কোথায় ছিল? হঠাৎ অপ্রত্যাশিত মর্যাদা ও ক্ষমতা পেয়ে বকধার্মিক চাটুকার দরবেশ বাবারা রক্তের সাথে আপোষ করে চেটে ফুটে গিলে খাচ্ছে। যেখানটায় বলা যায় উলটপালট করে দে মা লুটেপুটে খাই! এজন্যই কি এত রক্তের ঋণ? (কৃতজ্ঞতা : লিখাটি কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদের আল ইসলাহ ম্যাগাজিনের জুলাই বিপ্লব সংখ্যায়প্রকাশিত)

লেখক : সমাজকর্ম বিভাগ, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।