ঢাকা ০১:৫৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
চট্টগ্রাম জেলা শিল্পকলা একাডেমীতে ক্যানভাস পাপেট থিয়েটারের ১৩ বছরের সৃজনযাত্রা উদযাপন ওসমানীনগর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রবীণ কর্ণারের উদ্বোধন এইচআরসি এ্যাওয়ার্ড পদকের জন্য মনোনীত হলেন সাংবাদিক এনায়েত সোহেল নাজমুলের পদত্যাগের দাবিতে অনড় ক্রিকেটাররা, মাঠে যাননি কেউ যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশিদের ভবিষ্যৎ: ওয়েলফেয়ার বিতর্কে ভিসা সংকট সাফ’র কমিটি পুনর্গঠন : সভাপতি এনকে নয়ন, সম্পাদক শাহিন ফ্রান্স যুবদলের যুগ্ম সম্পাদক হলেন ঢাবির সাবেক ছাত্র নেতা রনি খালেদা জিয়ার সমাধিস্থলে দোয়া-শ্রদ্ধা প্যারিসে বিজয় উৎসব “মুক্তিযোদ্ধারাই জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান, তাঁদের ঋণ কখনো শোধ হবার নয়” হার দিয়ে শুরু স্বাগতিক সিলেটের শান্তর ঝড়ো সেঞ্চুরিতে ভর করে জিতে গেল রাজশাহী

পিতৃ ভিটেতে আমার মেয়ে

ইব্রাহীম চৌধুরী :: গ্রামের এ গৃহস্ত বাড়িটি এমন হয়ে যাবে কস্মিন কালে কেউ চিন্তাও করেনি। টিলা আর ঝোপ ঝাড় বেষ্টিত ভিটেতে এখন ঘুঘুও হয়তো চষে বেড়ায় না।

আমাদের প্রথম প্রজন্মের প্রায় সব প্রবাসীর মনে গোপন ইচ্ছে থাকে, একসময় দেশে যাওয়ার। হয়ে উঠে না। সময়ে সময়ে জীবনের রঙ পাল্টায়। চেনা পথ, চেনা গলি- অচেনা হয়ে উঠে। কখনও আমারা জীবন থেকে পালাতে চাই। কখনও জীবনই আমাদের ছেড়ে পালিয়ে যেতে চায়।
অবিরাম ছুটে চলা ! অজানা গন্তব্যের দিকে হাঁটতে হাঁটতে পেছনে ফরে দেখা !
আমার মেয়ে বেশ সাহস করেই দেশে গিয়েছে।
ওরা যেতে চায়। ইচ্ছে করলেই তাদের যাওয়া হয় না।

দেশে আমাদের তেমন কেউ নেই ! ভেকেশনের জন্য বাংলাদেশ সব সময় উত্তম গন্তব্যও নয়।
তবুও আমাদের সন্তানরা শেকড়ের সাথে সম্পর্ক রাখতে চায়। এ পরিচয় ধারণ করেই এরা বিশ্ব নাগরিক।

যে ভিটেতে আমার মা হেঁটেছেন। সেই ভিটেতে মেয়ের ছবি দেখি। সিঁড়ি টপকানো টিলায় বাবার পায়ের ছাপ হয়তো এখনও আছে !
তার দাদার কবরের পাশে দাঁড়িয়ে আমার মেয়ে কী প্রার্থনা করে !
বাবা নিশ্চিত দেখছেন, তাঁর নাতনি দূরের দেশ থেকে গিয়ে কবরের পাশে দাঁড়িয়েছে।
ছবি দেখে বুকে হাহাকার উঠে !
এ হাহাকারের কোনও মানে আমার জানা নেই । একদমই জানা নেই।

সম্পাদক, প্রথম আলো উত্তর আমেরিকা।

 

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

চট্টগ্রাম জেলা শিল্পকলা একাডেমীতে ক্যানভাস পাপেট থিয়েটারের ১৩ বছরের সৃজনযাত্রা উদযাপন

পিতৃ ভিটেতে আমার মেয়ে

আপডেট সময় ০৩:৪৪:০৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ অক্টোবর ২০২৪

ইব্রাহীম চৌধুরী :: গ্রামের এ গৃহস্ত বাড়িটি এমন হয়ে যাবে কস্মিন কালে কেউ চিন্তাও করেনি। টিলা আর ঝোপ ঝাড় বেষ্টিত ভিটেতে এখন ঘুঘুও হয়তো চষে বেড়ায় না।

আমাদের প্রথম প্রজন্মের প্রায় সব প্রবাসীর মনে গোপন ইচ্ছে থাকে, একসময় দেশে যাওয়ার। হয়ে উঠে না। সময়ে সময়ে জীবনের রঙ পাল্টায়। চেনা পথ, চেনা গলি- অচেনা হয়ে উঠে। কখনও আমারা জীবন থেকে পালাতে চাই। কখনও জীবনই আমাদের ছেড়ে পালিয়ে যেতে চায়।
অবিরাম ছুটে চলা ! অজানা গন্তব্যের দিকে হাঁটতে হাঁটতে পেছনে ফরে দেখা !
আমার মেয়ে বেশ সাহস করেই দেশে গিয়েছে।
ওরা যেতে চায়। ইচ্ছে করলেই তাদের যাওয়া হয় না।

দেশে আমাদের তেমন কেউ নেই ! ভেকেশনের জন্য বাংলাদেশ সব সময় উত্তম গন্তব্যও নয়।
তবুও আমাদের সন্তানরা শেকড়ের সাথে সম্পর্ক রাখতে চায়। এ পরিচয় ধারণ করেই এরা বিশ্ব নাগরিক।

যে ভিটেতে আমার মা হেঁটেছেন। সেই ভিটেতে মেয়ের ছবি দেখি। সিঁড়ি টপকানো টিলায় বাবার পায়ের ছাপ হয়তো এখনও আছে !
তার দাদার কবরের পাশে দাঁড়িয়ে আমার মেয়ে কী প্রার্থনা করে !
বাবা নিশ্চিত দেখছেন, তাঁর নাতনি দূরের দেশ থেকে গিয়ে কবরের পাশে দাঁড়িয়েছে।
ছবি দেখে বুকে হাহাকার উঠে !
এ হাহাকারের কোনও মানে আমার জানা নেই । একদমই জানা নেই।

সম্পাদক, প্রথম আলো উত্তর আমেরিকা।