ঢাকা ০৫:৪৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬, ১৭ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
কমিউনিটি ব্যক্তিত্ব সাত্তার আলী সুমনের মায়ের রুহের মাগফেরাত কামনায় দোয়া মাহফিল চট্টগ্রাম জেলা শিল্পকলা একাডেমীতে ক্যানভাস পাপেট থিয়েটারের ১৩ বছরের সৃজনযাত্রা উদযাপন ওসমানীনগর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রবীণ কর্ণারের উদ্বোধন এইচআরসি এ্যাওয়ার্ড পদকের জন্য মনোনীত হলেন সাংবাদিক এনায়েত সোহেল নাজমুলের পদত্যাগের দাবিতে অনড় ক্রিকেটাররা, মাঠে যাননি কেউ যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশিদের ভবিষ্যৎ: ওয়েলফেয়ার বিতর্কে ভিসা সংকট সাফ’র কমিটি পুনর্গঠন : সভাপতি এনকে নয়ন, সম্পাদক শাহিন ফ্রান্স যুবদলের যুগ্ম সম্পাদক হলেন ঢাবির সাবেক ছাত্র নেতা রনি খালেদা জিয়ার সমাধিস্থলে দোয়া-শ্রদ্ধা প্যারিসে বিজয় উৎসব “মুক্তিযোদ্ধারাই জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান, তাঁদের ঋণ কখনো শোধ হবার নয়”

ডেঙ্গুতে ছেলের মৃত্যুর এক সপ্তাহ পর মারা গেলেন মা

ছেলে নাহিদ ইসলামের সঙ্গে মা রোজি বেগম। ছবি: সংগৃহীত

অভিবাসন ডেস্ক :: ডেঙ্গুতে ছেলে হারানোর শোকের মধ্যেই একই রোগ কেড়ে নিল মাকেও। পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার মিরকামারী গ্রামে এক সপ্তাহের ব্যবধানে মা ও ছেলের মৃত্যুতে পুরো এলাকাবাসী স্তব্ধ, শোকাহত। শনিবার রাতে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে মারা যান রোজি বেগম (৪৫)।

এর এক সপ্তাহ আগেই ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারান তার ছেলে নাহিদ ইসলাম (১৯)। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে পরিবারের সদস্যরা নিশ্চিত করেছেন, মা ও ছেলে দুজনই ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন।

এদিকে আজ রোববার সকাল আটটা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরও পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে প্রাণ হারিয়েছেন ৪০৯ জন।

নাহিদের বাবা নুরুল ইসলাম বলেন, ‘আমার ছেলে প্রথমে জ্বরে আক্রান্ত হলে তাকে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। ডেঙ্গু ধরা পড়ে। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথেই ছেলেটা মারা যায়। ছেলেকে হারানোর শোক সামলানোর আগেই তার মাও অসুস্থ হয়ে পড়ল। ছেলের মৃত্যুর কয়েক দিন পর বৃহস্পতিবার আমার স্ত্রী ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হলে তাকে ঢাকায় এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সর্বোচ্চ চেষ্টা করেও তাকে বাঁচানো যায়নি।’

এক সপ্তাহের ব্যবধানে মা ও ছেলের এমন করুণ মৃত্যুতে পরিবারটির পাশাপাশি গোটা গ্রামেই নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, একই সময়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৩৮৭ জন। চলতি বছরে মোট ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন ১ লাখ ৪৭৭ জন। তাঁদের মধ্যে ৯৮ হাজার ৭২৯ জন সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ১ হাজার ৭৪৮ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মৃত্যু হয়েছে ৪০৯ জনের। যার মধ্যে নভেম্বর মাসেই মৃত্যু হয়েছে ৯৯ ডেঙ্গু রোগীর। যা চলতি বছরে এক মাসে সর্বোচ্চ মৃত্যু। গত অক্টোবর মাসে মৃত্যু হয়েছে ৮০ জনের। আর সেপ্টেম্বরে ৭৬ জনের মৃত্যু হয়েছিল ডেঙ্গুতে। এ ছাড়া জানুয়ারিতে ১০, ফেব্রুয়ারি মাসে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। মার্চ ছিল মৃত্যুহীন। এপ্রিলে ৭, মে মাসে ৩ জনের মৃত্যু হলেও বাড়তে থাকে জুন মাস থেকে। জুনে ডেঙ্গুতে ১৯ জনের মৃত্যু হয়। জুলাইয়ে সেই সংখ্যা গিয়ে দাঁড়ায় ৪১ জনে আর আগস্টে মৃত্যু ছিল ৩৯ জনের।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

কমিউনিটি ব্যক্তিত্ব সাত্তার আলী সুমনের মায়ের রুহের মাগফেরাত কামনায় দোয়া মাহফিল

ডেঙ্গুতে ছেলের মৃত্যুর এক সপ্তাহ পর মারা গেলেন মা

আপডেট সময় ০৯:৪৭:২৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫

অভিবাসন ডেস্ক :: ডেঙ্গুতে ছেলে হারানোর শোকের মধ্যেই একই রোগ কেড়ে নিল মাকেও। পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার মিরকামারী গ্রামে এক সপ্তাহের ব্যবধানে মা ও ছেলের মৃত্যুতে পুরো এলাকাবাসী স্তব্ধ, শোকাহত। শনিবার রাতে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে মারা যান রোজি বেগম (৪৫)।

এর এক সপ্তাহ আগেই ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারান তার ছেলে নাহিদ ইসলাম (১৯)। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে পরিবারের সদস্যরা নিশ্চিত করেছেন, মা ও ছেলে দুজনই ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন।

এদিকে আজ রোববার সকাল আটটা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরও পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে প্রাণ হারিয়েছেন ৪০৯ জন।

নাহিদের বাবা নুরুল ইসলাম বলেন, ‘আমার ছেলে প্রথমে জ্বরে আক্রান্ত হলে তাকে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। ডেঙ্গু ধরা পড়ে। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথেই ছেলেটা মারা যায়। ছেলেকে হারানোর শোক সামলানোর আগেই তার মাও অসুস্থ হয়ে পড়ল। ছেলের মৃত্যুর কয়েক দিন পর বৃহস্পতিবার আমার স্ত্রী ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হলে তাকে ঢাকায় এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সর্বোচ্চ চেষ্টা করেও তাকে বাঁচানো যায়নি।’

এক সপ্তাহের ব্যবধানে মা ও ছেলের এমন করুণ মৃত্যুতে পরিবারটির পাশাপাশি গোটা গ্রামেই নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, একই সময়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৩৮৭ জন। চলতি বছরে মোট ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন ১ লাখ ৪৭৭ জন। তাঁদের মধ্যে ৯৮ হাজার ৭২৯ জন সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ১ হাজার ৭৪৮ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মৃত্যু হয়েছে ৪০৯ জনের। যার মধ্যে নভেম্বর মাসেই মৃত্যু হয়েছে ৯৯ ডেঙ্গু রোগীর। যা চলতি বছরে এক মাসে সর্বোচ্চ মৃত্যু। গত অক্টোবর মাসে মৃত্যু হয়েছে ৮০ জনের। আর সেপ্টেম্বরে ৭৬ জনের মৃত্যু হয়েছিল ডেঙ্গুতে। এ ছাড়া জানুয়ারিতে ১০, ফেব্রুয়ারি মাসে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। মার্চ ছিল মৃত্যুহীন। এপ্রিলে ৭, মে মাসে ৩ জনের মৃত্যু হলেও বাড়তে থাকে জুন মাস থেকে। জুনে ডেঙ্গুতে ১৯ জনের মৃত্যু হয়। জুলাইয়ে সেই সংখ্যা গিয়ে দাঁড়ায় ৪১ জনে আর আগস্টে মৃত্যু ছিল ৩৯ জনের।