ওসমানীনগর(সিলেট)প্রতিনিধি :সিলেটের ওসমানীনগরে পৃথক দুটি অনুষ্ঠানে চম্পাতলী ও নাটকিলা খাল পুনঃখনন এবং বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে। সোমবার সকালে আয়োজিত এসব অনুষ্ঠানে সরকারের মন্ত্রী ও উপদেষ্টাবৃন্দ কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, বাজার নিয়ন্ত্রণ এবং পরিবেশ রক্ষায় সরকারের দৃঢ় অবস্থানের কথা জানান।
সকাল সাড়ে ৯ টায় উপজেলার তাজপুর ইউনিয়নের ল চম্পাতলী খালের খনন কাজের উদ্বোধনকালে বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী *খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, সিলেট মূলত এক ফসলি এলাকা। সেচ সংকট ও জলাবদ্ধতার কারণে কৃষকরা পিছিয়ে আছেন। এই খাল খননের ফলে প্রায় ১ হাজার ৫০০ বিঘা জমি নতুন চাষের আওতায় আসবে।” তিনি আরও জানান, খালের দুই পাড়ে বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করা হবে এবং প্রথম বছর থেকেই স্থানীয়রা এর সুফল পাবেন।
খুচরা ও পাইকারি বাজারের মূল্য পার্থক্য নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন,দামের কিছু তারতম্য স্বাভাবিক হলেও তা যেন অগ্রহণযোগ্য না হয় সেদিকে সরকার সতর্ক রয়েছে। তিনি ঘোষণা করেন যে, নিত্যপণ্যের দামের ব্যবধান খতিয়ে দেখতে ঈদের পর একটি ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং কমিটি গঠন করা হবে। এই কমিটি ব্যবসায়ী ও ভোক্তাদের উপস্থিতিতে প্রকাশ্য শুনানির আয়োজন করবে। এছাড়া বাণিজ্য ঘাটতিকে তিনি একটি স্বাভাবিক অর্থনৈতিক বাস্তবতা হিসেবে উল্লেখ করেন।
এসময় উপস্থিত ছিলেন সিলেট -২ আসনের সংসদ সদস্য তাহসীনা রুশদীর লুনা, সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী, জেলা প্রশাসক মোঃ সারওয়ার আলম, পুলিশ সুপার ড. চৌধুরী যাবের সাদেক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুনৃুমুন নাহার, জেলা পরিষদে প্রশাসক আবুল কাহের শামীম ও মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরীসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
দুপুরে উপজেলার গোয়ালাবাজার ইউনিয়নের নাটকিলা খালের খনন কাজের উদ্বোধন ও বৃক্ষরোপণ শেষে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা) হুমায়ূন কবির পরিবেশ রক্ষায় কড়া বার্তা দেন। তিনি বলেন, পরিবেশ ধ্বংসকারী ও খাল দখল করে স্থাপনা নির্মাণকারীদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। সকল অবৈধ উচ্ছেদ করে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করা হবে।
তিনি এই কর্মসূচিকে একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এই উদ্যোগ শুরু করেছিলেন। বর্তমানে জননন্দিত জননেতা তারেক রহমানের নির্দেশনায় দেশব্যাপী এই কাজ পুনরায় শুরু হয়েছে। খাল খননের ফলে সেচ সুবিধা বৃদ্ধির পাশাপাশি জলাবদ্ধতা দূর হবে এবং ডেঙ্গুসহ পানিবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাব কমবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
নিজস্ব সংবাদ : 













