নিজস্ব প্রতিবেদক :শিল্প-সাহিত্য, সংস্কৃতির তীর্থভূমি ফ্রা ন্সের প্যারিসে অনুষ্ঠিত হয়েছে বাচিকশিল্পী সাইফুল ইসলামের একক আবৃত্তি সন্ধ্যা। ‘মধুর স্মৃতির বাতায়ন’ শিরোনামে শনিবার (২৮ মার্চ) সন্ধ্যায় প্যারিসের স্টুডিও ব্লু মিলনায়তনে এ আবৃত্তি সন্ধ্যা অনুষ্ঠিত হয়।
প্রবাসে বাংলা ভাষা, সাহিত্য ও আবৃত্তিচর্চাকে এগিয়ে নিতে সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘অক্ষর’ এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। আয়োজকদের মতে, প্রবাসে বাংলা সাহিত্যচর্চা টিকিয়ে রাখা এবং নতুন প্রজন্মের কাছে কবিতার সৌন্দর্য পৌঁছে দিতে এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
দীর্ঘদিন ধরে ফ্রান্সে বসবাসরত আবৃত্তিশিল্পী সাইফুল ইসলাম প্রবাসী সাংস্কৃতিক অঙ্গনে সুপরিচিত এক নাম। বিভিন্ন সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে তাঁর কণ্ঠে কবিতা আবৃত্তি শ্রোতাদের মাঝে বিশেষ আবেদন সৃষ্টি করে। একক এই আবৃত্তি সন্ধ্যায় তিনি বাংলা সাহিত্যের বিভিন্ন সময়ের খ্যাতিমান কবিদের কবিতা আবৃত্তি করেন। এর মধ্যে ছিল রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘ঐকতান’, কাজী নজরুল ইসলামের ‘সব্যসাচী’, জীবনানন্দ দাশের ‘বনলতা সেন’, আবু জাফর ওবায়দুল্লাহর ‘আমি কিংবদন্তির কথা বলছি’, নির্মলেন্দু গুণের ‘তুমি চলে যাচ্ছো’ এবং আসাদ চৌধুরীর ‘সত্য ফেরারী’সহ আরও কয়েকটি জনপ্রিয় কবিতা।
অনুষ্ঠানে আবৃত্তির সঙ্গে আবহসঙ্গীত পরিবেশন করেন কণ্ঠশিল্পী সাগর বড়ুয়া ও মৌসুমী চক্রবর্তী। যন্ত্রসঙ্গীতে সহযোগিতা করেন তবলায় প্লাসিড শিপন রেবেরিও এবং কিবোর্ডে সাগর বড়ুয়া। তাঁদের পরিবেশনায় আবৃত্তির আবেগ ও পরিবেশ আরও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। অনুষ্ঠানের উপস্থাপনায় ছিলেন আবৃত্তিশিল্পী মুনির কাদের।
সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন কবি বদরুজ্জামান জামান, আবৃত্তিশিল্পী আবু বকর আল-আমিন, মো. সাব্বির জাহান, রুবেল মজুমদার ও লোটাস বাবু।
অনুষ্ঠান সম্পর্কে আয়োজক সংগঠন ‘অক্ষর’-এর প্রতিনিধিরা বলেন, প্রবাসে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির চর্চা ধরে রাখতে নিবেদিতপ্রাণ শিল্পী ও সাংস্কৃতিক কর্মীদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাইফুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে নিষ্ঠার সঙ্গে সেই কাজটি করে যাচ্ছেন এবং ভবিষ্যতেও এমন আয়োজন অব্যাহত থাকবে।
নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে সাইফুল ইসলাম বলেন, কবিতা মানুষের ভেতরের অনুভূতি ও মানবিক বোধকে জাগিয়ে তোলে। প্রবাসে থেকেও যারা বাংলা কবিতা ও আবৃত্তিকে ভালোবেসে পাশে থাকেন, তাদের উৎসাহই তাঁকে কাজ করে যেতে অনুপ্রাণিত করে। তিনি বলেন, “এটি আমার জন্য স্মরণীয় একটি কবিতা-সন্ধ্যা। উপস্থিত দর্শক, কবি ও সাহিত্যপ্রেমীদের কাছে আমি আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ। ভবিষ্যতেও যেন নিজেকে আরও শাণিত করতে পারি—সবার আশীর্বাদ কামনা করছি।”
আবৃত্তির পাশাপাশি সাইফুল ইসলাম সঙ্গীতশিল্পী হিসেবেও পরিচিত। ২০২২ সালে তাঁর কণ্ঠে কবি কাজী নজরুল ইসলামের জনপ্রিয় ঈদের গান ‘ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ’ গানটি প্যারিসের বিভিন্ন স্থানে ধারণ করে একটি মিউজিক ভিডিও প্রকাশিত হয়, যা প্রবাসী বাঙালিদের মধ্যে প্রশংসিত হয়।
প্রবাসী সাহিত্য ও সংস্কৃতিপ্রেমী দর্শকদের উপস্থিতিতে আবেগঘন এই আবৃত্তি সন্ধ্যা প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। অনুষ্ঠান শেষে দর্শকেরা শিল্পীকে উষ্ণ শুভেচ্ছা জানান।
নিজস্ব সংবাদ : 









